ওরা আসবে চুপিচুপি

ওরা আসবে চুপিচুপি

কাকভেজা হয়ে রেশাওয়াত যখন ঘরে ফিরল ঘড়িতে তখন সময় রাত ১১টা। আজ বিকেল অবধি আবহাওয়াটা ভালই ছিল। ফুরফুরে বাতাস দিচ্ছিল। আগেরদিন নিজের ফাস্টফুডে অনেক রাত পর্যন্ত কাটাতে হয়েছে ওকে। তাই আজ বেলা করে ঘুম ভেঙেছে তার। ভূতেরগলি মসজিদের পাশেই রেশাওয়াতের ছোট্ট ফুডকোর্টটা। ওর বন্ধু আরিফ ঢাকায় এসেছিল ভারতের ভিসা সংক্রান্ত একটা কাজে। আজ সে ফিরে গেল। গাড়ি ছিল রাত দশটায়। স্টার কাবাব থেকে খাওয়া সেরে আরিফকে শ্যামলি রিং রোডে নামিয়ে দিল রেশাওয়াত। সমস্যাটা বাধল ফিরবার পথে। ফুটওভারব্রিজটা পেরিয়ে রাস্তার ওপাশে যেতেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি শুরু হল। রাস্তা ফাঁকা হতে শুরু করল। কয়েকটা দোকানের শাটার পড়ার আওয়াজ পাওয়া গেল। সাত নম্বর বাসটা পেয়ে তাই রেশাওয়াত তড়িঘড়ি করে উঠে পড়ল। সংসদ ভবন এলাকা পার হতে হতেই গুড়িগুড়ি বৃষ্টি রুপ নিল মুষলধারে। আনোয়ার খান মডার্নের সামনে বাস নামিয়ে দিল তাকে। রেশাওয়াত বুঝতে পারল না কি করবে।
এলোমেলো শৈশব – ২

এলোমেলো শৈশব – ২

শিরোনামটা "এলোমেলো শৈশব" দিবার একমাত্র কারণ, ঘটনাগুলোর সময়রেখা কোন নির্ধারিত ছকে বাঁধা নয়। ছোটবেলার যখন যে বিষয়টা মাথায় আসছে, সেটাই লিখে ফেলছি। ব্লগে লিখে রাখছি খুব বড় কোন উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। একান্তই নিজের জন্য! অনেক বয়স যখন হয়ে যাবে, বুড়িয়ে যাব যখন, তখন যদি নিজে পড়তে নাও পারি, নাতি-নাতনিদের অনুরোধ করব পড়ে শোনাবার জন্য। আর পাবলিকলি রাখা হচ্ছে এজন্য যে, কাছের মানুষগুলোর মন্তব্য-ভৎর্সনা থেকে সবাই ধারণা পাবেন, আমার আশেপাশে কত রসিক বন্ধুবৎসল মানুষ ছিলেন।
এলোমেলো শৈশব – ১

এলোমেলো শৈশব – ১

শিরোনামটা "এলোমেলো শৈশব" দিবার একমাত্র কারণ, ঘটনাগুলোর সময়রেখা কোন নির্ধারিত ছকে বাঁধা নয়। ছোটবেলার যখন যে বিষয়টা মাথায় আসছে, সেটাই লিখে ফেলছি। ব্লগে লিখে রাখছি খুব বড় কোন উদ্দেশ্য নিয়ে নয়। একান্তই নিজের জন্য! অনেক বয়স যখন হয়ে যাবে, বুড়িয়ে যাব যখন, তখন যদি নিজে পড়তে নাও পারি, নাতি-নাতনিদের অনুরোধ করব পড়ে শোনাবার জন্য। আর পাবলিকলি রাখা হচ্ছে এজন্য যে, কাছের মানুষগুলোর মন্তব্য-ভৎর্সনা থেকে সবাই ধারণা পাবেন, আমার আশেপাশে কত রসিক বন্ধুবৎসল মানুষ ছিলেন।  যাই হোক, শুরু করি।
হেমন্তের আকাশ

হেমন্তের আকাশ

২০১৬ বা ১৭ সালের দিকে হিউম্যানস অব ঠাকুরগাঁও নামে একটা প্রজেক্ট শুরু করি কয়েকজন মিলে। সেটার জন্য একটা ডোমেইনও নেওয়া হয়। সেখানে মানুষের গল্প বলা হতো। সেটার একটা পেইজও আছে। যার অর্গানিক ভিউ বেশ ভালো। সেটার একটা ব্লগও ছিল। পাব্লিক ব্লগ। সবাই লিখতে পারে এমন। সেখানে অনেকগুলো লেখা লিখেছিলাম। আনফরচুনেটলি সেখানকার বেশ কয়েকটা লেখার কপি অন্য কোথাও বা আমার এ ব্লগে তুলে রাখিনি। এর মাঝে ২০২৩-এ হুট করে ডোমেইনটা রিনিউ না করায় তা বন্ধ হয়ে যায়। ডেটাবেজটাও কীভাবে যেন হোস্টিং থেকে হারিয়ে ফেলি! একদম যা তা অবস্থা। আজকে হুট করে আর্কাইভ ডট ভিএন আর ওয়েব্যাক মেশিনের কথা মাথায় আসল। দেখলাম, ওয়েব্যাক মেশিন চমৎকার করে আর্কাইভ করে রেখেছে সব! সেখানে মার্চ ০৩, ২০১৭ তারিখে প্রকাশিত ব্লগটি আর্কাইভ হিসেবে এখানে তুলে রাখলাম।...বাকিটুকু পড়ুন
ব্লাডি মেরি এবং…

ব্লাডি মেরি এবং…

দিনের তৃতীয় সিগারেটটা শেষ করে সিগারেটের শেষ অংশটুকু বারান্দা থেকে বাইরের দিকে ছুড়ে দিল আশিক। নিচতলার বাসা। বাইরেরটা উঠোনের মত। ঢাকায় এরকম বাসা পাওয়া কঠিন। কলাবাগানের একটা চিপাগলির শেষ মাথায় বাসা। বাসার প্রধান ফটকে সুন্দর করে লেখা 'আব্দুল মান্নান'। এই বাড়ির মালিক। আসলে মালিক বললে ভুল হবে। মালিক ছিলেন। মান্নান সাহেব মারা গেছেন বহু বছর আগে। তিনি মারা যাবার পরও তার নামের সামনে মরহুম লাগানো হয়নি। এর পেছনে একটা ঘটনা আছে।
বই পড়া, পড়া বই: ‘দৃষ্টি প্রদীপ’ ও ‘দুই বাড়ি’

বই পড়া, পড়া বই: ‘দৃষ্টি প্রদীপ’ ও ‘দুই বাড়ি’

২০২৬ সালে এসে বই পড়া বিষয়টা কেমন যেন 'হয়ে ওঠে না' টাইপ জিনিস হয়ে গিয়েছে। ইদানিং স্বল্প দৈর্ঘ্যের রিলস, শর্টস ইত্যাদির আধিক্যে ডোপামিন লুপে পরে মনোযোগের পরিধি যেন বৃত্ত থেকে বিন্দুতে এসে ঠেকছে। কোথাও দেখেছিলাম, বাবা-মা বই পড়লে নাকি শিশুরাও বইয়ের প্রতি আগ্রহী হয়। নিজেদের দুই বছরের কন্যাকে 'ছোট আকারের বহুমাধ্যম যন্ত্র' থেকে দূরে রাখতেই হোক, অথবা কিছুদিন আগে হাতে পাওয়া বিভূতিভূষণ উপন্যাস সমগ্রের মাঝে নতুন বইয়ের ঘ্রাণ নেওয়ার জন্যই হোক, উত্তমার্ধ (better half!) আর আমি দুজনে শরতের এক শুক্রবার বসে পরলাম দুটো খণ্ড নিয়ে। বিভূতির আরণ্যক, আদর্শ হিন্দু হোটেল, পথের পাঁচালির নাম ডাক সবাই জানেন। পড়াও আছে এগুলো সংকলনে থাকলেও। দৃষ্টি প্রদীপ নামটা দেখে নিজে পড়া শুরু করলাম। আর 'তিনি' পড়লেন বিপিনের সংসার!
সংক্ষিপ্তসার-২০২৪ ও সংকল্প-২০২৫

সংক্ষিপ্তসার-২০২৪ ও সংকল্প-২০২৫

একটি অসাধারণ বছর গেলো, যা পূর্ণ ছিল বেশ কিছু অর্জন, সফলতা, এবং নতুন অভিজ্ঞতার। আমাদের কন্যা নুমাইরা আজিম হকের জন্মের মধ্য দিয়ে জীবনে সবচেয়ে বড় উপহারটি আমরা পেয়েছি, পাশাপাশি দুই বছর পূর্ণ করেছি প্রশাসন সার্ভিসে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে। পেশাগত বেশ কিছু অর্জন এ বছর পেয়েছি। ২০২৫ সালে আমি এর ধারাবাহিকতা বজায় রাখা ও নতুন কিছু করার চেষ্টা করব। এই পডকাস্টে আমি আমার ২০২৪ সালের অর্জন ও সংক্ষিপ্তসার এবং একই সাথে ২০২৫ সালের জন্য কয়েকটি সংকল্প শেয়ার করব।